মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির ‘পঞ্চপাণ্ডব’এর লীলাখেলায় টেনশনে সাব রেজিস্ট্রার আঃকাদিরের অবস্থা তথৈবচ!

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন যেন এক রূপকথার ‘পাণ্ডব বর্জিত’ এলাকা নয়, বরং ‘পাণ্ডব অধ্যুষিত’ দুর্গে পরিণত হয়েছে। অফিসের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক নতুন আতঙ্কের নাম— ‘পঞ্চপাণ্ডব’। এই পাঁচজনের দাপটে সাধারণ ভুক্তভোগীরা যেমন দিশেহারা, তেমনি খোদ সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়।  এই পঞ্চপাণ্ডব হলো আওলাদ, সোবহান, বাবু হাওলাদার, হারিচ ও আওলাদের আপন ভাই আকিব। এরা সবাই নামমাত্র সামান্য টাকা হাজিরার কর্মচারী হলেও এদের প্রত্যেকের রয়েছে নামে বেনামে ফ্লাট গাড়ি বাড়ি ব্যবসা। এরা সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ধনি ব্যক্তি। এরা সকলেই কোটিপতি। এদের মধ্যে তিনজনের অবৈধ সম্পদ শতকোটি টাকা ছুঁই ছুঁই। এরা দলিল ঠেকিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে জমি দাতা গ্রহীতাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লুটে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই ৫ জনের আছে পৃথক পৃথক নিজ নিজ শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের শক্তিশালী বলয় ভেদ করতে স্বয়ং সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির সাহেবকেও অনেক সময় হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বেচারা সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের অবস্থা তথৈবচ! একদিকে পঞ্চপাণ্ডবের আবদার, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের হাহাকার—সব মিলিয়ে তার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। অফিস সামলাবেন নাকি নিজের চেয়ার বাঁচাবেন, সেই টেনশনেই দিন কাটছে তার।

এই পঞ্চপাণ্ডবের নগ্ন চাঁদাবাজি ও জাল জালিয়াতির দলিল বাণিজ্যের কারণে মাঝেমধ্যেই সাব রেজিস্ট্রার এর কপালে ফুটে উঠে সুতীক্ষ্ণ চিন্তার ভাঁজ। তিনি না পারেন এদের কে অফিস থেকে বের করে দিতে,না পারছেন এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে। তেমনি এই সিন্ডিকেটের কিছু কিছু অন্যায় আবদার নীরবে মেনে নিতেও বাধ্য হন সাব রেজিস্ট্রার। আর হঠাৎ হঠাৎ অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতো নিমরাজী হয়ে দলিলে সহি করার পর সাব রেজিস্ট্রাররা এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। এই ধরনের মিশন সাকসেস হলে গোপনে এই চক্রের হাতে চলে আসে কোটি কোটি টাকা। রাতভর রাজধানীর বিশেষ একটি হোটেলে চলে পার্টি। অবৈধ টাকার গরম, দালাল সিন্ডিকেট ও গুন্ডা বাহিনীর পেশিশক্তি এবং স্থানীয় অর্থপিশাচ কতিপয় নেতাদের মদদে এরা কখনো কখনো সাব রেজিস্ট্রার এমনকি জেলা রেজিস্ট্রার এর সাথেও বাক বিতন্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।।

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দুই ভাইয়ের রামরাজত্ব

দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কব্জায় পরিণত হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস। অভিযোগ উঠেছে, দুই ভাই দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করে দলিল জালিয়াতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বছরের পর বছর চাকরি করে যাচ্ছেন। দুই ভাই হলেন, আওলাদ হোসেন ও আকিব হোসেন। তারা দুইজনই মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত এক্সট্রা মোহরার (নকলনবিস) হিসেবে কর্মরত।

সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ বছর ধরে নকলনবিস আওলাদ হোসেন একই অফিসে চাকরি করছেন এবং নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। এসব অনিয়ম ঢাকতে তার ছোট ভাই মো. আকিব হোসেনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো অফিস। তেজগাঁও সাব রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দলিল লেখক, স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও স্থানীয় কিছু চিহ্নিত দালালদের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেটের যোগসাজসে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নানান ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন আওলাদ হোসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নকলনবিস বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সারাবাংলাকে জমি কেনাবেচার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি হচ্ছে বালাম বই আর আওলাদ হোসেন চাকরিতে যোগদানের পর হতে এখন পর্যন্ত কোনো বালাম বই সঠিকভাবে সম্পাদন করেননি। যার সত্যতা মিলবে যদি সঠিকভাবে অনুসন্ধান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আওলাদ হোসেন বিভিন্ন সময় বালাম বই ঘষামাজা এবং ছিঁড়ে ফেলে সেবা প্রত্যাশীদের চাপের মুখে ফেলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।’

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, নকলনবিস আওলাদ হোসেন বিভিন্ন দলিল লেখকদের স্বাক্ষর/সই নকল করেও বিভিন্ন অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতে নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, আওলাদ হোসেনের ছোট ভাই মো. আকিব হোসেন অবৈধ পন্থায় কোনো ধরনের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ক কাগজপত্রাদি ছাড়াই মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজ করে চলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নাড়াচাড়া করছেন যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক নিকট আত্মীয় জানান, আওলাদ হোসেন আগে ইয়াবার ব্যবসা করতেন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন।

আওলাদ হোসেন তেজগাঁও কুনিপাড়ায় পাঁচতলা আলিশান বাড়ি, টঙ্গী, বাড্ডা, হাতিরঝিলে তার বাবার জায়গায় নিজের অর্থায়নে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি ও জমি ক্রয় করেছেন। সিলেটের সুনামগঞ্জে প্রায় তিন একরের বেশি জায়গার ওপরে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি মাছের ঘেরও করেছেন।
ইয়াবার মামলায় তিনি ২ নম্বর আসামি। ওই মামলায় আওলাদ তিন মাস জেলও খেটেছিল। এরপর ওই মামলায় তিনি খালাস পান। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর তেজগাঁও এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেই মামলা আওলাদ হোসেন ৪ নম্বর আসামি। মামলাটির এখনো চার্জশিট হয়নি।

৬০ টাকার উমেদার আব্দুস সোবহানের ১২ বছেরর রাজত্ব

শতকোটি টাকার মালিক মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার আব্দুস সোবহান।
কাগজে-কলমে তিনি একজন সাধারণ উমেদার, দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরাভিত্তিক মজুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু বাস্তবে সেই ‘তুচ্ছ’ পদ কে ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতি ও অনিয়মের এমন এক সাম্রাজ্য, যার ফলে তিনি আজ শতকোটি টাকার মালিক।
আব্দুস সোবহান ২০১৪ সালে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্থায়ী উমেদার হিসেবে যোগ দেন। ১১/১২ বছরের মধ্যে তিনি ও তাঁর পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড় জমা করেছেন। দৈনিক ৬০ টাকা মজুরিতে নিযুক্ত একজন কর্মীর পক্ষে এমন সম্পদের মালিক হওয়া স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব, কিন্তু সোবহান সেই অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ঘুষ ও তদবির-বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি এই বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। শুধু তাই নয়, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও তাঁর কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করেন।

সোবহান, তাঁর স্ত্রী হালিমা এবং মায়ের আয়কর নথিতে বিপুল সম্পদের উল্লেখ রয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী, তাঁদের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটির বেশি। অথচ স্ত্রী ও মা দুজনেই গৃহিণী।
রাজধানীর আদাবরের সড়কের পাশে ২৪/৩ হোল্ডিং নম্বরে একটি সাততলা বাড়ির মালিক সোবহান।
আদাবরের ১০ নম্বর সড়কে ৭১২/১৯/৬৬ হোল্ডিংয়ে ৩.৫৯ কাঠা জমিতে ২৪টি ছাপরাঘর।
মোহাম্মদপুর সড়কের ১৭/বি, বি/এফ-এ ৫ শতাংশ জমিতে ১৮টি ছাপরাঘর (আরএস নং ২৪০, এসএ খতিয়ান নং ৫৯)।
বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্বে ২ কাঠার একটি প্লট (সিএস খতিয়ান নং ২৯) এবং একই এলাকায় আরও ৬ শতাংশ জমি (এসএ নং ২৯৩)।
আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির ১১ নম্বর সড়কে ৬১৭ হোল্ডিংয়ের একটি ভবনে তাঁর তিনটি ফ্ল্যাট।
বছিলা সিটিতে ১৫ কাঠার একটি প্লট।
মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় ২০ কাঠা জমি।
কাঁটাসুর মৌজায় ৯৬৫৪ নং দলিলমূলে ১৮ কাঠার একটি প্লট।
আদাবরের ৩ নম্বর সড়কের ৩২২ হোল্ডিংয়ের “সিলিকন” ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট, যেখানে বর্তমানে তাঁর এক আত্মীয় থাকেন।

সম্পদ শুধু জমি বা ফ্ল্যাটেই সীমাবদ্ধ নয়। সোবহানের নামে তিনটি মাইক্রোবাস রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী ও মা গৃহিণী হলেও আয়কর নথিতে বিপুল সম্পদের মালিক হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া শাশুড়ি ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামেও সম্পদ কেনা-বেচার অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভেতরে সোবহানের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে অভিযোগ উঠেছে তিনি এই পদকে ‘আলাদিনের চেরাগে’ পরিণত করেছেন। একাধিক তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও তদবির-বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে আওলাদ ও আকিব দুইভাইয়ের ষড়যন্ত্রে তিনি অফিসের মধ্যে বর্তমানে কিছুটা ব্যালেন্স করে চলার চেষ্টা করছেন।

আরেক কোটিপতি বাবু হাওলাদার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আরেক কোটিপতি স্টাফ বাবু হাওলাদার। সাব রেজিস্ট্রারের কথিত সহকারী বাবু হাওলাদার নিজেই রমরমা ঘুষ দুর্নীতি ও অভিনব বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড। আর সাব রেজিস্ট্রার শুধু বাবুর চোখের ইশারায় করেন দলিলে স্বাক্ষর। এসব ঘুষ দুর্নীতিতে বাবুকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে দলিল লেখক সমিতির কতিপয় নেতা ও অফিস স্টাফরা। বাবু হাওলাদারের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলেও ভুক্তভোগীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস।

সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে, সাব-কবলা দলিলের পরিবর্তে হেবাবিল এওয়াজ, অসিয়ত নামা, ঘোষণাপত্র, আমমোক্তার নামা, দানপত্র দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারকে ধোকা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। যুবলীগের রাজনীতির সাথে সংযুক্ত থাকা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতেও বাবু হাওলাদার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে গভীর শলাপরামর্শে লিপ্ত থাকতেন বলে সূত্র জানায়।। এ প্রসঙ্গে দলিল লেখক সমিতির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৫ আগস্ট দেশের সার্বিক পেক্ষপট পরিবর্তনে সপ্তাহ খানেক চুপচাপ থাকলেও আবারো বাবু হাওলাদার স্বমহিমায় আবির্ভূত।

ভূক্তভোগীরা বলেন দলিল প্রতি সেরেস্তার নামে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নর্মালে আদায় করা হচ্ছে। এ অফিসে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ হাজার থেকে ১২শ দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে বেশির ভাগ দলিল হেবাবিল এওয়াজ, আমমোক্তার নামা ও দানপত্র ও ঘোষণাপত্র দলিল।
এভাবেই জাল জালিয়াতি করে বাবু এখ রাজধানীতে একাধিক বাড়ি গাড়ি ফ্লাট ও প্লটের মালিক। আছে বেনামী ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা লগ্নী।

সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদিরের কথিত সহকারী হারিচ

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার আব্দুল কাদির এর কথিত সহকারী হারিচ এই অফিসের দুর্নীতিকে আরও সংগঠিত, পরিকল্পিত ও ভয়াবহ স্তরে নিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে সেবা গ্রহীতা ও দালালদের মুখে মুখে।

এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপে ঘুষ বাধ্যতামূলক করেছেন হারিচ। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয় বা বিনা কারণে ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অফিসের দালাল চক্রকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। যারা বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন, তাদের কাজ অল্প সময়েই সম্পন্ন হয়—এ যেন প্রতিষ্ঠিত ‘দুর্নীতির কাস্টমার সার্ভিস’।

এই অফিসে দুর্নীতির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করেন সাব রেজিস্টার সহকারী হারিচ। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা হারিচ গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে আয় করেছেন কোটি কোটি টাকা—এমন অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের। তার নিজ গ্রামে ইতোমধ্যে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করেছেন, যার নির্মাণব্যয় তার বেতন-ভাতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুধু তাই নয়, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রয়েছে হারিচের নামে বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট। তার আর্থিক সাম্রাজ্য দিন দিন ফুলেফেঁপে উঠছে।
মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন যে পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয় তার একটি বড় অংশ আসে হারিচের পকেটে। সাব রেজিস্ট্রার,ডিআর, আইজিআর অফিসের নামে হারিচ এসব টাকা নিজের বাসায় নিয়ে যান। হারিচ ব্যক্তিগত নির্দেশে ঘুষের হার নির্ধারণ থেকে শুরু করে দালালদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ সব তিনি নিজেই তদারকি করেন।
এই হারিচ, সোবহান, আওলাদ, বাবু হাওলাদার ও আকিব দলিল নিবন্ধনের মৌলিক সরকারি সেবাকে তারা ব্যক্তিগত লুটপাটের উৎসে পরিণত করেছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো কঠোর তদারকি না থাকায় দুর্নীতিবাজদের দাপট আরও বেড়ে গেছে। যত দিন না এসব দুর্নীতির শিকড় উন্মোচন করে শাস্তির আওতায় আনা হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।

স্টাফ রিপোর্টার

Recent Posts

৩ হাজার পিস ইয়াবা সহ এনসিপির আরিফুল গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…

11 minutes ago

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিচার শুরু

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…

2 hours ago

নিখোঁজের তিন দিন পর ধান ক্ষেতে মিললো শিশুর লাশ, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ…

2 hours ago

আলমডাঙ্গায় ডিএনসি’র ঝটিকা অভিযান: লুঙ্গির কোঁচড় থেকে বের হলো ৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদক লুকানোর এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হয়নি মো.…

6 hours ago

সিলেটে শ্রমিক তোপে বিতাড়িত সেই ডিডি সানাউল: চট্টগ্রামে গড়েছেন দুর্নীতির অপ্রতিরোধ্য ‘রাজত্ব’

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরা এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ (মেট্রো-২ সার্কেল) কার্যালয়টি এখন…

6 hours ago

ঝিনাইদহে বাসে র‍্যাবের বড় অভিযান: পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে মিলল সাড়ে ৭ কোটি টাকার ‘আইস’

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায়…

19 hours ago