রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পরিবারের তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা দেওয়ানীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাতেই গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন ভুক্তভোগী পরিবারের আলহাজ্জ মাহফুজার রহমান (৭০)। এজাহারে তিনি মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩২), মোঃ নুরুন্নবী (৬০) ও মোছাঃ ছবিলা বেগমকে (৫২) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এজহারে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে মসজিদে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে মাহফুজার রহমান তাঁর বাঁশঝাড় থেকে নির্মাণসামগ্রী সরাতে বললে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর ছেলে মোঃ মারুফ রহমান (৩৮) ঘটনাটি জানতে চাইলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম, নুরুন্নবী, ছবিলা বেগমসহ আরও কয়েকজন লাঠি, লোহার রড ও দা–ছোড়া নিয়ে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালান।
মারুফকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমার ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) ও পুত্রবধূ মোছাঃ সুমনা বেগম (৩২) কেও মারধর করা হয়।
আরও জানা যায়, শহিদুল ইসলাম লোহার রড দিয়ে মোস্তাফিজুরের মাথায় আঘাত করতে চাইলে তা মুখে লাগে এবং তিনি গুরুতর জখম হন। মোছাঃ সুমনা বেগমকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে লাথি–ঘুষিতে আহত করা হয় এবং নুরুন্নবী তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটান।
আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা জীবননাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মোস্তাফিজুরকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মারুফ ও সুমনা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান জানান,‘ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’