ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, যা বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উপজেলায় এ বছর আমনের সর্বোচ্চ ১৯৩৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ অর্জিত হয়েছে। এজন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বীজতলা থেকে শুরু করে ধানের পরিপক্কতা পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক মাঠে কারিগরি পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কৃষককে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছে গঙ্গাচড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। উপজলা কৃষি অফিস জানায়, কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের গোড়ায় পোকা জমে রস চুষে নেয় ফলে গাছ শুকিয়ে হপার বার্ন আকারে ফসলের ক্ষতি করে। এ পোকা সাধারণত অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগ, মাটিতে পানি জমে থাকা, স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, গুমোট পরিবেশে বেশি বংশবিস্তার করে থাকে।
ফসলের জমিতে রোগ ও পোকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদেরকে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকা, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, বিশেষ করে ইউরিয়া সারের পরিমিত ব্যবহার করা, আক্রান্ত জমির চারপাশের আগাছা ও পাতা পরিষ্কার রাখা,এলএলপি প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষকদের উৎসাহিত করা,
কৃষককে জমিতে যেয়ে প্রতি দুই হাত দূরে কেটে দেওয়া, কারেন্ট পোকা প্রতিরোধী জাত ও মানসম্মত বীজ ব্যবহার করা, ফসল কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে দেওয়া, সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় নির্ধারিত কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ প্রদান করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকা দমন সম্ভব যদি কৃষক সময়মত পর্যবেক্ষণ করে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে। এছাড়াও আমরা নিয়মিত কৃষকের মাঠ পরিদর্শন করছি, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা মতবিনিময়সহ সন্ধ্যাবেলা আলোকফাঁদ কার্যক্রম, অতন্দ্র জরিপ কার্যক্রম চলমান রেখেছি। আমাদের ব্লক পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা নিরলসভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।