কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় জনমনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারি প্রকল্পে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত গ্রামাঞ্চলের মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ তছরুপ হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে।
এতে করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই ঘটনা জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যেসব প্রকল্প স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা উন্নত করার জন্য নির্ধারিত ছিল।
দেশের তৃণমূলে উন্নয়ন ও দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নানা অর্থ বরাদ্দ হয় উপজেলায়। উন্নয়নের জন্য ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উপজেলা পর্যায়ে থোক বরাদ্দ, সাধারণ ও বিশেষ নামে পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাউদকান্দি উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিখা কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার অনুকূলে ৭২টি প্রকল্প, ১৩৮ টন চালের অনুকুলে ১৯টি প্রকল্প বরাদ্দ হয়।
গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির ১ কোটি ৮০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বিপরীতে ১২৪টি এবং একই অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা বা কাবিটা কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে কাবিটা ৯৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার অনুকূলে ৩৩টি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচির আওতায় ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকার অনুকূলে ৭০টি, ৫৫ টন চালের অনুকূলে ১৭টি এবং একই পরিমাণ গমের ১৭টি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সর্বমোট ৫ কোটি ৬০ লাখ নগদ টাকা এবং ৩৮৬ টন চাল ও গমের অনুকূলে ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প তালিকা জমা দেন।
কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, তারা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করে বিলের জন্য পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকা বিল নিয়ে যান। অফিস খরচ বাবদ ১৭ শতাংশ টাকা কম দেওয়া তাদের।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইমরান মেম্বার বলেন, ‘সোনাকান্দা মেইন রাস্তা থেকে একটি প্রকল্পে আমাকে ২ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। দুইবারে আমাকে ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বিল পিআইও অফিস থেকে নগদ টাকায় দিয়েছে। বাকি টাকা খরচ হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে।’
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো ধরনের টাকা কেটে রাখা হচ্ছে না। আমরা প্রকল্প সভাপতির নামে বিল করে দিচ্ছি, কে উঠাচ্ছে তা বলতে পারব না।’ দুদকে মামলার বিষয়ে বলেন, ‘মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন নাগরিকরা একযোগে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তদন্ত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের টাকা দেশ ও সমাজের উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হওয়া উচিত, কিন্তু দুর্নীতির কারণে তা বিকৃত হচ্ছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটির তদন্ত শুরু করেছে। তারা জোর দিয়েছে যে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় জনগণ এখন আশাবাদি যে, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং দাউদকান্দির উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। এ বিষয়টি নজরদারিতে রাখার জন্য সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শীঘ্রই এ বিষয়ে আরও তথ্য দেয়া হবে। বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…