রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর মধ্যে একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এটি একটি সমন্বিত কারখানা। এখানে চিনি, ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের স্পিরিট ও দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন করা হয়।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড কারখানার মূল পণ্য চিনি হলেও কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখেছে ডিস্টিলারি পণ্য মদ। সেই লাভের খাত কেটে মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে । বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিগত সরকারের আমলের নানা অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে এর ভিতরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রংপুরের শ্যামপুর চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (সাবেক কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে স্বৈ/রা/চা/রী আমলে স্থগিতাদেশ অমান্য করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ১০৪ জনকে নিয়োগ, ১৩ হাজার লিটার মদ গায়েব, কেরু স্কুলে নিয়োগ জালিয়াতি সহ নানা বিষয় ।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে,কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় এমপি আলী আজগর (টগর) ও তার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু , কেরুজ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে সিন্ডিকেট করে ২০২৪ সালের ১৩ মে শুরু করে ১৫ মে পর্যন্ত মাত্র তিন দিনের মধ্যে সুপারসনিক গতিতে ১০৪ জন মৌসুমি শ্রমিক-কর্মচারীর স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ।
অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় করপোরেশন থেকে। কিন্তু কেরুর সাবেক এমডি মোশাররফ হোসেন আমলেই নেয়নি নির্দেশের সেই চিঠি। নির্দেশ অমান্য করায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দেওয়া হয় বিএসএফআইসি থেকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হয় নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য। ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেন, যোগ্যতার বিচারে নয় বরং অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অধিকাংশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল । এমনকি নিয়োগ দেওয়ার নাম করে ৫ থেকে ৯ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল শ্রমিকদের কাছ থেকে।
বিএসএফআইসি ও কেরুর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী লোকবলের সংকট থাকায় ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ লোকবল চেয়ে নীতিমালা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। এরপর সদর দপ্তর ২৫ মার্চ শূন্যপদ পূরণে নিয়োগের আহ্বান জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে ২ এপ্রিল স্থায়ীকরণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে কোনো পত্রিকায় প্রকাশ না করে শুধু নোটিস বোর্ডে দেওয়া হয়। পরে ১৩ ও ১৪ তারিখ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪০ জন শ্রমিক-কর্মচারী। তার মধ্যে ৩৬ জন শ্রমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়। গত ২০২৪ সালের ১৫ মে বেলা ১১টার দিকে ১০৪ জনকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে এক যুগ পর ১০৪ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে মৌসুমি থেকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ১৫ মে দুপুরের দিকে কেরুসহ সব চিনিকলে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত করার নির্দেশ দেন বিএসএফআইসি সচিব চৌধুরী রুহুল আমিন কায়ছার।
এ নির্দেশের পর সব চিনিকল জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখলেও ১৫ মে ২০২৪ তারিখে স্থানীয় এমপি আলী আজগর (টগর) এর সহযোগিতায় কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত নিয়োগের চিঠি কেরুর শ্রমিক ও কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি করে নিয়োগ সেরে চাকরির নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ওই তারিখেই নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান করানো হয়।
এদিকে স্থায়ীকরণে মুক্তিযোদ্ধা কোটা না মানায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিস পাঠান কারখানার মৌসুমি ফিল্টার হেল্পার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বাবুল আকতার নামে এক শ্রমিক।
অন্যদিকে বিএসএফআইসির পক্ষ থেকে ১৭ মে কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। করপোরেশনের দুটি চিঠির কপিই প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে রয়েছে। বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শেখ শোয়েবুল আলমের পক্ষ থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়, আপনার (ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেরু) বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, আপনি ১৩ মে ও ১৪ মে তারিখে মিলের মৌসুমি জনগণ থেকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে ১০৪ জনকে ১৫ মে তারিখে নিয়োগপত্র দিয়ে একই দিনে চাকরির নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে তাদের যোগদান করিয়েছেন। এছাড়া সদর দপ্তরের ১৫ মে তারিখের চিঠিতে মৌসুমি জনবল থেকে স্থায়ীকরণ-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও আপনি তা অমান্য করে নিয়োগ দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয়, আপনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে লোকজন নিয়োগে অনিয়ম করেছেন, যা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন কর্মচারী প্রবিধানমালা-১৯৮৯ এর পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার লিখিত জবাব আগামী তিন দিনের মধ্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কাছে দিতে হবে। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য আলি আজগর টগরের লবিং এ সবকিছু থেকে পার পেয়ে যান মোশাররফ হোসেন।
এছাড়া ২৬ জুন, ২০২৪ তারিখে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগে ১৩ হাজার ১৯০ দশমিক ৭৫ লিটার ডিএস স্পিরিট (মদ তৈরির কাঁচামাল) গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠে। এই স্পিরিটের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। কেরু ডিস্টিলারিতে ডিএস স্পিরিট দিয়ে বিলেতি মদ ফরেনলিগারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ উৎপাদন করা হয়। এসব মালামাল গায়েবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগে ব্র্যান্ডেড ওয়্যারহাউজের (ডিস্টিলারি ভান্ডার) সাবেক ইনচার্জ এ কে এম মাজেদুর রহমান ওরফে তুফানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তবে ঘটনাটি জানাজানি হলেও অজ্ঞাত কারণে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যন্ত শুরু হয়নি।
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি নামে এক শিশুর মরদেহ…