রাজধানীর বাড্ডা সহকারী-ভূমি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান লেবুর নেতৃত্বে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব

দেশের জনগণের জমিজমা ও ভিটেমাটি সরকারি নিয়মানুযায়ী বৈধ করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবা প্রদান করে থাকে এর আওতাভুক্ত দেশের বিস্তৃত সব এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ভূমি অফিসের আমলারা। কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যায় যে, জনগণের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে এই সরকারি বেতনভুগী কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধাভোগে গড়ে তুলেছেন অঘোষিত এক ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যবসা। আর এই ঘুষ বানিজ্য চালানো হয় এক বিশাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

দুর্নীতি আর অনিয়মের এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা রাজধানীর বাড্ডা ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ভূমি কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। স¤প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় ওই কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক।

অভিযোগে জানা যায়, বাড্ডা ভূমি অফিসে যোগদান করার পর থেকেই আসাদুজ্জামান সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। এখানে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুস দেওয়ার পরও কাজ হয় না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে। জাল দলিলে জমির নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে। নামজারি, খারিজ, খাজনা প্রদানসহ অন্যান্য কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আসাদের অনিয়মই নিয়ম। সরকার কর্তৃক ভূমি খারিজের ফি ১১৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হয়।

কখনো কখনো সর্বনিম্ন ২০-৫০ হাজার টাকার নিচে নাম খারিজ করে দেওয়া হয়নি-এমন প্রমানও মিলেছে অসংখ্য, এভাবে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নেতৃত্বে। দৌরাত্ম বেড়েছে দালাল সিন্ডিকেটেরও, ১০/১২ জন দালালের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে টাকা নেওয়া হয়। সহকারী কর্মকর্তা আসাদ তার লালিত ওমেদারদের একটি রেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কেউ নামজারি করতে চাইলে এই রেট অনুযায়ী টাকা দিয়েই করতে হবে। সে অনুযায়ী বাড্ডা মৌজার অধিগ্রহণের অবমুক্ত হওয়া এলএ কেইস জমির নামজারির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুস নিয়ে থাকে এই ওমেদার দালাল সিন্ডিকেট। আর অধিগ্রহণের বাইরের জমির জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়। নইলে জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলেও মেলে না নামজারি বা মিউটেশন। আর কাগজপত্রে ত্রæটি থাকলে তিনি পাঁচগুণ টাকাও আদায় করছেন এমন অভিযোগ আছে, সামান্য ভুল থাকলেও জমির মালিকদের কাছ থেকে নিজে এবং দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করাহয়। পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসাদের ‘আইন’ মানতে বাধ্য হন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের। এ বিষয়ে দৈনিক আমাদের কন্ঠ প্রতিবেদক সরেজমিন তদন্তে গেলে দেখা মেলে দালালদের অফিস কক্ষ থেকে রেকর্ডরুমে পর্যন্ত আনাগোনা দালালদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে রেকর্ডরুমে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেযে তড়িঘড়ি করে রেকর্ডরুম আটকে দেওয়া হয় এবং দালালদের দ্রæত বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে দুর্নীতিবাজ এই সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান লেবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের তদন্ত কাজে বাঁধা প্রদান করেন এবং তার প্রভাব খাটিয়ে উল্টো প্রতিবেদনকারী সংগ্রহকারিকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর জন্য তার লালিত গুন্ডা বাহিনীকে খবর দিয়ে এনে পেশী শক্তির প্রভাবের চেষ্টা করেন কিন্তু প্রতিবেদকের কোন ভুল না পেয়ে কিছুই করতে পারেনি তারা । নামপরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিন জন মহিলা ভোক্তভূগী বলেন, আমরা দুই মাস ধরে ঘুরতেছি নাম খারিজ করার জন্য কয়েকবার আবেদনও করেছি প্রত্যেকবারই কোন না কোন ভুল থাকে।এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় হিসেবে জানতে চাইলে এই অফিসের একজন স্যার বলেন ২০ হাজার টাকা লাগবে,তাহলে আপনার কাজ করে দেওয়া যাবে।তাদের বক্তব্য মতে বুঝা যায় যে, আসাদের বেঁধে দেওয়া টাকা দিলে নামজারি হয়ে যেত অনায়াসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ভূমি মালিক বলেন, তার দাবিকৃত ঘুষের অর্থ দিতে অস্বীকার করলে নানা টালবাহানা করে জমির মালিকদের হয়রানি করেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আসাদ। আরেক ওমেদার অভিযোগ করেন, বাড্ডা ভূমি অফিসে তহশিলদারের টার্গেট মোতাবেক মাসে নামজারির কাজ এনে না দিলে এখানে কাজ করা যাবে না মর্মে হুমকি দেন আসাদ। এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের হস্তক্ষেপ জরুরী।
এখানে বহিরাগত অনেক দালাল অনায়াসে রেকর্ডরুমে ঢুকে নথিপত্র নাড়াচাড়া করার কারনে হয়তো কখনো কখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজেরও সন্ধান মিলে না। বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে বাড্ডা ভূমি অফিসে। অভিযুক্ত এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান লেবু এ সকল দুর্নীতি করে গড়েছেন টাকার পাহাড় নামে বেনামী সম্পদ। দুর্নীতির বিষয় তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না বলে জানান। বহিরাগতদের বিষয়ে বলেন, আমাদের এখানে অনেক লোক সেবা নিতে আসে, সকলের সাথে একজন সময় দিতে পারে না তাই বহিরাগত লোক দিয়েও কাজ করাতে হয়।বহিরাগত লোক দিয়ে কাজ করালে সেখানে একটু আধটু অনিয়ম থাকাটা স্বাভাবিক। (আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে)।

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক

Recent Posts

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের…

10 hours ago

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত…

11 hours ago

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…

12 hours ago

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…

12 hours ago

বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৬ ডিআইজি

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…

14 hours ago

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড:ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…

14 hours ago