ঘুষ-দুর্নীতির ‘রসের হাঁড়ি’ জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিসঃঘাটে ঘাটে ঘুষ বাণিজ্য!নেপথ্যে নাজির মহিদুল ইসলাম

সার্ভেয়ার মো. সজীব হোসেন
কম্পিউটার অপারেটর বিধান কুমার সরকার
জারিকারক মোঃ রেজাউল হক

 

 

 

 

 

 

 

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভূমি) অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নামজারি, নাম সংশোধন সহ ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা সমাধানে গরীবের পকেট কাঁটা হচ্ছে। এই পকেট কাঁটার মূল হোতা জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মহিদুল ইসলাম, ও তার সহকারী জারিকারক মোঃ রেজাউল হক, সার্ভেয়ার মো. সজীব হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর বিধান কুমার সরকার ।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহ্‌বুবা মঞ্জুর মৌনার নাম ভাঙিয়ে অফিস খরচের নাম করে প্রতি নিয়ত পকেট কাঁটছেন এই চক্রটি। ঘুষের টাকা হাতানোর জন্য এই চক্রটি একটি দালাল সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সব দালালদের মাধ্যমে তারা ঘুষের টাকা গ্রহণ করেন। দালালদের মাধ্যমে ঘুষের টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকে আর দালালদের দায়িত্ব দিলে হর হামেশায় কাজ হয়ে যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কোনো জমির নামজারি করতে হলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপরে শুরু হয় ঘুষ বাণিজ্য। আবেদনের পরে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি অফিস থেকে প্রত্যয়ন নিতে হলে দিতে হয় ঘুষ, এরপর সার্ভেয়ারের প্রত্যয়নেও ঘুষ এমন কি বাড়বাবু ও নাজিরের টেবিলে ঘুষের টাকা জমা না হলে এসিল্যান্ডের টেবিলে ফাইল যায় না। এভাবে প্রতিনিয়ত একজন সেবা প্রত্যাশি কে ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিয়ে নামজারি করাতে হয়। বর্তমান নাজির মহিদুল ইসলাম যোগদান করার পরে ঘুষের ফর্মুলারও পরিবর্তণ হয়েছে। তারা উপজেলার ১ টি – জীবননগর পৌরসভা সহ ৮ টি ইউনিয়ন বাঁকা,মনোহরপুর ,রায়পুর ,সীমান্ত ,হাসাদাহ ,উথলী,আন্দুলবাড়িয়া ও কেডিকে ইউনিয়ন। নাজির মহিদুল ইসলাম ও বাড়বাবু দুই টেবিলে ভাগ করে নিয়েছেন। সে অনুযায়ী ঘুষের টাকা জমা হয় বলে জানা গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নাজির মহিদুল ইসলাম সেবা প্রত্যাশিদের কক্ষের বাইরে বসিয়ে রেখে দরজা আটকিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করছেন। আর সেবা প্রত্যাশিরা ঘন্টার পর ঘন্টা স্বাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। এসময় তারা বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে আমরা কোনো মানুষই না। আমাদের বসিয়ে রেখে তারা অতিথি অপ্যায়নে ব্যাস্ত।
সেনেরহুদা গ্রামের সোবহান ইসলাম বলেন, আমি নামজারি করতয়ে ৮ হাজার টাকা দিয়েছি। এখনো কাগজ হাতে পায়নি। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আগের এসিলঅ্যান্ডের সময় ৩-৪ হাজার টাকায় নাম জারি করা যেত এখন ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা না দিলে কাজ হয় না। অফিসে নতুন কর্মকর্তা আসলেই ঘুষের পরিমান বাড়ে। এখন দেখছি জমিজমা না থাকায় ভালো ছিলো।

হাসাদাহ বাজারের আব্দুস সালাম মিয়া সহ একাধিক সেবা প্রত্যাশী বলেন, নামজারি করতে সরকারী খরচ ১২০০ টাকা। কিন্তু ঘুষ না দিলে কাজ হয় না। নাম জারি করতে প্রতিটি ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিতে হয়। উপজেলা সহকারী ভূমি অফিস থেকে নামজারি করতে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা নেয় অথচ সরকারী খাতে জমা হয় মাত্র ১২ শত টাকা, বাকি টাকা চলে যায় অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে। তারা এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এই টাকা গ্রহণ করেন। নামজারি করতে হলে সরকারী খরচের টাকা বিকাশের মাধ্যমে জমা দেয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময় বড়বাবু ও নাজির নিজের হাতে টাকা নেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো টাকায় অফিসের লোকের হাত দেয়ার সুযোগ নেই।

কয়েকজন দালাল চক্রের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আগের অফিসারদের ১ হাজার টাকা দিলে হতো এখন ফাইল প্রতি দিতে হয় ১৬শ টাকা। অফিসার সহ নতুন কর্মকর্তারা যোগদানের পর ঘুষের পরিমান বেড়েছে। আপনার কাজ থাকলে আমাদের দিলে কম খরচে করে দিব তবে ৫ হাজারের নীচে হবে না।

পরিচয় গোপন করে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সহকারী কমিশনার অফিসের অফিস সহকারী মোঃ সোহাগ রানা বলেন, যে কোনো জমির নামজারি করতে গেলে সমস্যা না থাকলে ৬ হাজার টাকা লাগবে, আর যদি সমস্যা থাকে তাহলে টাকা আরও বেশী লাগবে। প্রকৃত কত টাকা লাগবে কাগজ না দেখে বলা যাবে না। আপনাদের কাজের কোনো সমস্যা হবে না। আমি সবসময় স্যারের সাথে থাকি, অন্যদের কাছে কাজ দিলে হয়ত দেরী হবে আমার কাছে দিলে কোনো সময় লাগবে না। আর আমার কাছে টাকা মার যাবার সম্ভবনা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে   নাজির মহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান এই  অভিযোগের বিষয়ে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই । এছাড়া বাকি অভিজুক্তদের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহ্‌বুবা মঞ্জুর মৌনারসৈয়দজাদী মাহ্‌বুবা মঞ্জুর মৌনা ফোন রিসিভ করেননি ।

এসব বিষয়ে জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন চুয়াডাঙ্গার এডিসি রেভিনিউ এর কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দেন। আর তাছাড়া এই মাসেই চুয়াদাঙ্গা জেলায় আমাদের গন শুনানির প্রোগ্রাম আছে ওখানে অভিযোগ দিবেন অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই সমস্ত দূর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা। বিভাগীয় তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

( আগামী পর্বে চোখ রাখুন জীবননগর এসিল্যান্ডের নামে কোন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন তার বিস্তারিত)

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক

Recent Posts

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…

16 minutes ago

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…

26 minutes ago

বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৬ ডিআইজি

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…

3 hours ago

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড:ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…

3 hours ago

৩ হাজার পিস ইয়াবা সহ এনসিপির আরিফুল গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…

5 hours ago

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিচার শুরু

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…

6 hours ago