দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে আলোচিত ঘুষ-দুর্নীতির ঘটনায় ফের নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি ঘুষের টাকাসহ এক রাজস্ব কর্মকর্তা ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর আবারও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। এবার তদন্তের আওতায় এসেছে শুধু কাস্টমস কর্মকর্তা নয়, বন্দরের প্রভাবশালী সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী এবং দালালচক্রও।
গত সপ্তাহে দুদকের খুলনা বিভাগীয় একটি বিশেষ টিম বেনাপোল কাস্টমসে অভিযান চালিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। তার সহযোগী এনজিও সদস্য হাসিব হোসেনের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঘুষের নগদ অর্থ। দুজনকেই পরে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনার পর বন্দরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করেন, এটি দীর্ঘদিনের গোপন ঘুষ সংস্কৃতির একটি অংশ মাত্র।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে একাধিকবার অনুরূপ অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ সময়ই সেগুলোর ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে—তদন্ত শুরু হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে তা অঘোষিতভাবে স্থগিত হয়ে যায়। ফলে দুর্নীতি দমন কার্যক্রম বাস্তবে কার্যকর রূপ পায়নি।
জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীন বলেন, ঘুষের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর আমরা নতুন করে গোটা কাস্টমস ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখছি। শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চক্র শনাক্ত করাই এখন লক্ষ্য। তদন্তের আওতায় আসবে সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক লেনদেনও। তিনি আরও জানান, দুদকের একটি দল ইতিমধ্যে বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নথি সংগ্রহ করেছে। তদন্তে একাধিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন বলেন, দুদকের তদন্তে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাস্টমসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমাদেরও নীতিগত প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু কিছু কর্মকর্তা নয়, বন্দরের প্রভাবশালী সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অনেকে কাস্টমসের ভেতরের প্রভাব খাটিয়ে পণ্য ছাড় ও চালান অনুমোদনের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বেনাপোলের সিনিয়র ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্নীতি এখন এখানে একধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেক সিএন্ডএফ এজেন্ট বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন, অথচ তাদের মূল আয়ের উৎস প্রশ্নবিদ্ধ। দুদক যদি প্রকৃতভাবে তদন্ত করে, তাহলে বড় সিন্ডিকেট ধরা পড়বে।
বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের একাংশও স্বীকার করেছেন, ঘুষ ও দালালি এখন বন্দর ব্যবস্থার বড় বাধা। যে বেশি টাকা দেয়, তার কাজ আগে হয়, এই সংস্কৃতি এখন খোলাখুলিভাবে চলছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫শ থেকে ৬শ ট্রাক আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অনিয়ম এবং দালালচক্রের প্রভাবে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরা পড়ছেন ক্ষতির মুখে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, বেনাপোলের দুর্নীতি বন্ধে শুধু দুদকের অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার, কর্মকর্তা রদবদল ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের…
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…