যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভেতরে এখন অসহনীয় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে, তথ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে ফার্মেসি রুম, তত্ত¡াবধায়কের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডের আশপাশ এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নাক-মুখ চেপে না চললে সেখানে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালের পরিবেশ এখন অসহ্য হয়ে উঠেছে। অনেকে জরুরি চিকিৎসা শেষে দ্রæত হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, অনেকে আবার ওয়ার্ডের ভেতরে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানিয়া সুলতানা বলেন, আমরা তো চিকিৎসা নিতে আসি, কিন্তু এখানে দুর্গন্ধে থাকা দায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এমন দুর্গন্ধে যে কেউ অসুস্থ না থাকলেও অসুস্থ হয়ে পড়বে।
আরেকজন রোগীর স্বজন ওমর আলী বলেন, তথ্যকেন্দ্র বা জরুরি বিভাগের সামনে দুগন্ধে দাড়ানোর উপায় নেই। এমন পরিবেশ কোনো হাসপাতালের হতে পারে না। এত বড় সরকারি হাসপাতালে যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
হাসপাতালের ফার্মেসী রুমের সামনে দুর্গন্ধের মাত্রা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন রোগীরা। রুমি রহিম, রাজিয়া সুলতানাসহ বেশ কয়েকজন বলেন, ওয়ার্ডের পাশে ড্রেনের পানি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে না। ফলে মল মুত্র ও বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ আরও বেড়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত¡াবধায়ক জরুরি বিভাগের সামনে পায়ুনিষ্কাশনের মল-মূত্র নিষ্কাশনের জন্য একটি আলাদা হাউজ তৈরি করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিলো হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য যাতে সরাসরি ড্রেনে না পড়ে, সেজন্য আলাদা হাউজ হয়ে প্রক্রিয়াজাত হয়ে নিষ্কাশন হবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে সেই হাউজ এখন কার্যত প্রাই অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মল-মূত্র ও হাসপাতালের বর্জ্য ওই প্রাই বন্ধ ড্রেনে পড়ছে। ফলে ড্রেনের ভেতর জমে থাকা আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং তা হাসপাতালের বিভিন্ন পথঘাট ও ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ছে।
হাসপাতালের জমাদ্দার ইমরান হোসেন জানান, মূল সমস্যা তৈরি হচ্ছে বাথরুমের পানিনিষ্কাশন পাইপগুলোতে। রোগীরা সেখানে সেনিটারি ন্যাপকিন প্যাড, কাপড়চোপড়, মাছ-মাংসের হাড়, এমনকি খাবারের বর্জ্যও ফেলে দিচ্ছেন। এগুলো জমে গিয়ে পাইপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পানি ঠিকমতো বের হতে না পারায় ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে পড়ে ড্রেনে ছড়িয়ে পড়ছে। সেখান থেকেই তীব্র দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়াচ্ছে।
ইমরান আরও বলেন, আমরা নিয়মিত পরিষ্কার করার চেষ্টা করি, কিন্তু রোগী ও স্বজনদের সচেতনতার অভাবেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার উবাইদুর রহমান কাজল জানান, তদারকির ঘাটতি নেই। আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা টিমকে নির্দেশনা দিই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ড্রেন ও পাইপলাইনের পুরনো কাঠামোতে। যেখানেই পরিষ্কার করি, কিছুদিনের মধ্যে আবার আটকে যায়। এছাড়া রোগী ও স্বজনরা বাথরুমে ময়লা ফেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলছেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন সিনিয়র চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না থাকলে রোগীরা দ্রæত সংক্রমিত হতে পারেন। ড্রেনেজের সমস্যাকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটানো, পাইপ পরিষ্কার করা এবং বর্জ্য আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থা করা জরুরি। তিনি আরোও বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত বাজেট থাকলেও তদারকির অভাবে কাজ হয় না। হাসপাতালের অভ্যন্তরে স্যুয়ারেজ সিস্টেম ঠিকঠাক থাকলে এমন দুর্গন্ধের সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।
হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দুর্গন্ধের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্নতা টিম কাজ করছে। হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে। আশা করছি খুব দ্রæতই এ সমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, রোগী ও স্বজনদেরও সচেতন হতে হবে। তারা যেন বাথরুমে প্যাড, কাপড়, খাবারের উচ্ছিষ্ট বা প্লাস্টিকজাত বর্জ্য না ফেলে, এই বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…