মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক উত্তম কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে অর্থ আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তম অধিকারী আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরের সুপারিশে প্রথমে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হলে তিনি পুনরায় ওই এমপির সুপারিশে পদোন্নতি পান।
অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনও হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সাবেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতবদল হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে প্রকাশ্যে আলোচনায় ছিল।”
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক নানা কাজে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়টির বাংলা শিক্ষক আবু নঈম কিতাব আলী খন্দকার জানান, প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের আঞ্চলিক পরিচালক পদে থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে লিপ্ত রয়েছেন। তাছাড়া তিনি আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তমঞ্চ, শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু কর্নার, ফুলের বাগান, গেট, সিসি ক্যামেরা, ডিজিটাল ঘণ্টা, খেলার মাঠে বালু ভরাট, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ সাজসজ্জা ও অতিরিক্ত ক্লাসরুম নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়টির একজন অভিভাবক জোয়ার্দার বলেন, “বিদ্যালয়ে কিছু কাজ হয়েছে, কিন্তু কাগজে দেখানো ব্যয়ের অঙ্ক বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি।”
রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। উত্তম অধিকারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে প্রভাবশালী ছিলেন। শিক্ষক সমাজে তার ‘সার্টিফিকেট’ ছাড়া অনেকেই নির্বাচনের দায়িত্ব পেতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর তিনি বিএনপি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। সম্প্রতি শ্রীপুরে ছাত্রদল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে সঞ্চালনা ও সংগীত পরিবেশন করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন আলী বলেন, “বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক হয়ে বিএনপির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তম অধিকারী বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মুন্সী ও তার ভাইদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীরের পরিবারের এক সদস্যকে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির আহ্বায়ক করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকরা বলেন, একজন সরকারি শিক্ষকের এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক আচরণবিধির পরিপন্থী। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অর্থনৈতিক অডিট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, “বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিলের হিসাব খুলে দেখলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসবে।” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বদানকারী একজন প্রধান শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেবল ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
তবে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিগত দিনে আওয়ামী লীগের দল করলেও এখন বিএনপির সঙ্গে চলাফেরা করি, তাতে সমস্যা কী শিক্ষকদের? আমি একটু গান-বাজনা ভালোবাসি, তাতেই যত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পদে থাকা এবং বিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবীর আজ দুপুরে জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…
বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…