বানের জলে ভাসছে ঘর, পেটে নেই অন্ন, খাবার নেই, আশ্রয় নেই: গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দী হাজারো মানুষের করুণ আর্তনাদ।
হঠাৎ হু হু করে বাড়তে থাকে তিস্তা নদীর পানি। ভারতের উজান থেকে রেকর্ড পরিমাণ পানি নেমে তলিয়ে যায় তিস্তার আশপাশের এলাকা। পরে সেই পানি নামতে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন গ্রাম। ভেসে গেছে ক্ষেত-খামার। এরই মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির হাহাকার, খাবারের অভাব।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার থেকে ধীরগতিতে পানি নামতে শুরু করলেও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় চার হাজার পরিবার। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধসহ রাস্তাঘাট। বন্যাদুর্গতের শুকনা খাবার বিতরণসহ বন্যা পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়ে চলেছে উপজেলা প্রশাসন।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের সিকিমসহ বিভিন্ন প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রোববার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর ভারত থেকে রেকর্ড পরিমাণ পানি ধেয়ে আসে তিস্তায়। রাত ১০টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা এ বছর তিস্তায় সর্বোচ্চ পানির উচ্চতা হিসেবে রেকর্ড করে পাউবো।
এতে গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গাচড়া, নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লহ্মীটারী, গজঘন্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এসব এলাকার আগাম আমন ধান,মরিচের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ গবাদী পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরের মানুষ। এদিকে গত আগস্ট মাস থেকে গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়। রোববার থেকে পানির তীব্র স্রোতে কারণে সেই বাঁধের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সোমবার দুপুর থেকে কমতে থাকে তিস্তার পানি।
গঙ্গাচড়া উপজেলার লহ্মীটারী ইউনিয়নের দুলালী বেগম বলেন, ‘আইতো হঠাৎ করে নদীর পানি এক্কেবারে বাড়ি গেইল। বাড়ির ছাওয়া, গরু-ছাগল নিয়া হামরা বান্দোত (নদীর তীররক্ষা বাঁধ) আশ্রয় নিছি। দিনোত আসি দেকি বাড়ির উঠানোত এক হাঁটু পানি উঠছে। এ্যালা কেমন করি খাওয়া-দাওয়া করমো, কোটে থাকমো সেই চিন্তা বাহে।
লহ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পশ্চিম ইচলী, পূর্ব ইচলী, শংকরদহ, চর চল্লিশসালসহ আমার ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যাদের বাড়ি নদীর পাশে ছিল তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। পানি যদি আরও বাড়ে তাহলে উদ্ধারের জন্য নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি।
এ বিষয়ে রংপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন,তিস্তার পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এর ফলে গঙ্গাচড়ায় বন্যার অবস্থা উন্নতি হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারতের প্রদেশ গুলোতে মাঝারী থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরবরাহ করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন তিস্তা নদী বেষ্টিত। তিস্তার পানিতে ইউনিয়নের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে নিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। এছাড়া বন্যা দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দী মানুষদের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল এবং ২ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো.…
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)…