বেরোবির শহীদ ফেলানী হলে নানামুখী ভোগান্তি, অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল শহীদ ফেলানী হল(সাবেক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল)। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা আবাসন জনিত নানা সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলে ন্যূনতম সুবিধা থাকলেও শহীদ ফেলানী হলে তা আরও সীমিত যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে বৈষম্যমূলক মনে হচ্ছে।

‎আবাসিক শিক্ষার্থী আতিকা ঊর্মী অভিযোগ করে বলেন, ৪ সিট ও ৮ সিটের কক্ষের ভাড়া একই হলেও ৮ সিটের কক্ষে একটি বেড দুই শিক্ষার্থীকে ভাগাভাগি করতে হয়। ছোট বিছানায় দুজন মিলে থাকতে হয়, একটি টেবিল-চেয়ারও  দুই জন মিলে শেয়ার করতে হয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া রাত সাড়ে ৮টায় গেট বন্ধ করে দেওয়ায় টিউশনি শেষে হলে ফিরতে সমস্যায় পড়তে হয়।

‎সাথী রায় জানান, বেশিরভাগ রুমে বেড শেয়ার করে এক বেডে দুইজন থাকতে হয়। চার সিটের রুমে ৮ জন থাকায় পর্যাপ্ত জায়গা থাকেনা রুমে, এক টেবিলে দুইজন এক সাথে পড়াশোনা করতে সমস্যা হয়। এক বেডে দুইজন থাকা স্বত্বেও দুইজনের থেকেই ফুল ভাড়া নেওয়া হয়। মানে জনপ্রতি মাসে ২৫০ টাকা দিতে হয় এক রুমে, ৮ জন মিলে ২০০০ টাকা দেওয়া হয়। অথচ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাড়া ৩০ টাকার বেশি নয়।

‎আরেক শিক্ষার্থী(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ডাইনিং এর খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ। পর্যাপ্ত প্লেট, বাটি, গ্লাস নেই। ভর্তুকি দেওয়া হলে ভালো হতো। রিডিং রুম খুব জরুরি প্রয়োজন, বিশেষ করে পরীক্ষার সময় পড়ার জায়গা পাওয়া যায় না।

‎শিক্ষার্থী মনিসা আক্তার জানান, আমাদের হলে কোনো গেস্ট রুম নেই। বাড়ি থেকে কেউ আসলে বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়, যা অস্বস্তিকর। লাইট-ফ্যান নষ্ট হলেও বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও ঠিক করা হয় না। খাবারের মান খারাপ, অথচ সিট ভাড়াও অন্যদের তুলনায় বেশি।

‎এছাড়াও হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং নষ্ট সরঞ্জাম দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

‎এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট সিফাত রুমানা বলেন, হল তার পূর্ববর্তী নীতিমালা অনুযায়ী চলছে। ডাবল সিটে সবাইকে প্রথমে থাকতে হয় পরে সিঙ্গেল করা হয়।এইটা আগে থেকেই হয়ে আসছে। যদি এখনি আমরা সকল শিক্ষার্থীকে সিংগেল সিট দিতে চাই তাহলে বর্তমানে ৩০০ শিক্ষার্থীর জায়গা হচ্ছে তখন এর অর্ধেক পরিমান জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে। হলে খাবারের মানোন্নয়ন সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, আমরা ক্রমাগত চেষ্টা চালাচ্ছি খাবারের মান বজায় রাখতে।

‎তিনি আরও বলেন,হলে গেস্ট রুম তৈরির কাজ চলমান, নিচ তালায় অফিস রুম ও গেস্ট রুম একত্রে থাকবে এবং রিডিং রুম প্রসারিত করার বেপারেও কথা চলছে। তবে হলের গেট সাড়ে ৮ টায় বন্ধ করা হয় হল নীতিমালা অনুযায়ী। নীতিমালা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণেই এভাবে তৈরি করা হয়েছে।

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি :

Recent Posts

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ধর্ষণের…

10 hours ago

চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত…

11 hours ago

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের…

12 hours ago

শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।…

12 hours ago

বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৬ ডিআইজি

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বাধ্যতামূলক অবসরের আওতায় বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে…

14 hours ago

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড:ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের…

14 hours ago