বান্দরবানের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম সেনের ৪০ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি

বান্দরবানের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যেন লুটপাটের মহা আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করা সহজ-সরল মানুষের সুপেয় পানির কষ্টকে পুঁজি করে অসংখ্য প্রকল্পের নামে লুট করা হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদারের সঙ্গে কর্মকর্তারা হাত মিলিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ হরিলুট চালিয়ে আসছেন। দুর্নীতিবাজ এ সিন্ডিকেটের বিচার দাবি করেছে সুশীল সমাজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানে নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি বড় টেন্ডার আহ্বান করে। টেন্ডারের নম্বর ৪৬.০৩.০৩০০.০০০.৯৯.০০১.২৪-১৮৬। এতে ৪টি টেস্ট টিউবওয়েল, ২টি প্রোডাকশন ওয়েল, ২টি পাম্প হাউজ, ২টি আরসিসি ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, মেকানিক্যাল ওয়ার্কস, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজসহ মোট ১২টি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম সেন কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে এসব কাজ ভাগাভাগি করে দেন। প্রতিটি কাজের বিপরীতে তিনি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ঠিকাদার মো. সরওয়ার অভিযোগ করেন, এখানে নামে মাত্র টেন্ডার আহ্বান করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী আগে থেকেই তার পছন্দের ঠিকাদারদের গোপন কোড ও দর জানিয়ে দেন। ফলে অন্য ঠিকাদাররা কোনোভাবেই কাজ পান না। তার দাবি, গত তিন বছরে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় ৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন।

এবারের টেন্ডার ভাগাভাগির তালিকায় শরীফ নিজাম, মোহাম্মদ কামাল, মোহাম্মদ মোস্তফা, মোহাম্মদ রবিউল, নুরুসহ কয়েকজন ঠিকাদারের নাম এসেছে। স্থানীয়ভাবে তারা আওয়ামীলীগের দোসর ও সাবেক মন্ত্রি বীর বাহাদুরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, বান্দরবানে টেন্ডার ভাগাভাগিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নেতারাই একাকার হয়ে যায়। এবারের টেন্ডারেও জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার আহ্বানের পর থেকেই নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে বসছেন না। সাধারণ কোনো ঠিকাদার তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিবেদক সরাসরি তার কার্যালয়ে গেলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সাক্ষাৎ দেননি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি পূজার ছুটিতে আছি। প্রেসক্লাব থেকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক

Recent Posts

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জরিপ

হানিফ খোকন : নিজস্ব মতামত আমার এই জরিপ যতটা সম্ভব প্রফেশনালি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে করা…

4 days ago

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যমুনার উদ্দেশে তারেক রহমান

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সপরিবারে যমুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপি…

1 month ago

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাবে মাসিক দুই হাজার পাঁচশ টাকা প্রতিটি পরিবারঃ দুলু

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক…

1 month ago

তারেক রহমানের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি, নেতৃত্বে সততা ও যোগ্যতার প্রতীক মাহমুদ হাসান খান বাবুর বৈঠক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এই…

1 month ago

আর কখনও যেন নির্বাচন ডাকাতি না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

বিগত ৩ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) অনিয়মের তদন্ত রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ…

1 month ago

কুড়িগ্রামে দুদকের অভিযানে ২১ মেট্রিক টন ধান ও ৩৫ মেট্রিক টন চাল উধাওয়ের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে ধান ও চালের মজুদে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন…

1 month ago